Business idea

গ্রামের সফল ও লাভজনক ব্যবসার কয়েকটি আইডিয়া

গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া

এখন আর আগের মতো দিন নেই। আগে বিয়ে-শাদি ইত্যাদি সব অনুষ্ঠানের মার্কেটের জন্য সবাই রওনা দিতো শহরের দিকে। কিন্তু সেই দিন আর নেই। এখন গ্রাম বাজারেও সফল ও লাভজনক ব্যবসা করা যায়। আপনার এলাকার মানুষদের কি জিনস বেশি প্রয়োজন হয় সেটা নিয়ে ভালো ভাবে যেনে সেই বিষয় নিয়ে আপনি নেমে পড়তে পারেন গ্রাম ব্যবসার জন্য। আজ আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করবো গ্রামের কয়েকটি লাভজনক ব্যবসা নিয়ে। যা আপনার এলাকার ছোট বাজারেও করতে পারবেন। তাই দেরি না করে দেখে নেওয়া যাক গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া গুলো।

গ্রামের সফল ও লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া

গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আপনাদের মাঝে কিছু ব্যবসার আইডিয়া সেয়ার করবো যেগুলো ব্যবসা গুলো গ্রামের সফল ও লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া।এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া গুলোঃ

১. ফাস্টফুডের দোকান

বড় বড় মেট্রো শহরে দুই পা হাঁটলেই সামনে পরে ফাস্টফুডের দোকান। ছোট শহর ও বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এই ফাস্টফুডের দোকান প্রতিযোগিতা মূলক এখনও অপেক্ষাকৃত কম। তাই এই ব্যবসার কথা ভাবা যেতে পারে। এটিও অল্প টাকায় ভাল ব্যবসা। দোকানঘর ভাড়া, বাসন পত্র, গ্যাস ইত্যাদি নিয়েই শুরু করে দিতে পারেন এই ব্যবসা। প্রাথমদিকে চাইনিজ ও মোগলাই খাবার দিয়েই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কারণ এই দুই ধরনের খাবার সকলের কাছেই পরিচিত ও সমাদৃত। পরে আস্তে আস্তে অন্যান্য ধরনের খাবার রাখার কথা ভাবতে পারেন।

২. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

আজকের তথ্য ও প্রযুক্তির দিনে কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা ছাড়া কোনো রকমের ভাল চাকরি পাওয়াই মুশকিল। গ্রাম অঞ্চলে এখনও ঘরে ঘরে কম্পিউটার না আসায় এই বিষয়টিতে তারা অনেক সময়ই পিছিয়ে পড়ে। গ্রামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে আপনি একদিকে যেমন তাদের শেখার সুযোগ করে দিতে পারবেন তেমনই নিজেও লাভ করতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে ভাল প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উপযুক্ত সংখ্যক কম্পিউটার কেনার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে ও সরকারি রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. কোচিং ক্লাস

স্কুল ও কলেজে ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য কোচিং ক্লাস খুলতে পারেন। দু-তিনটি ঘর ভাড়া করে শুরু করতে পারেন ব্যবসা। এলাকার শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞদের এনেও ক্লাস করাতে পারেন। আপনার কোচিং ক্লাস থেকে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা সাফল্য লাভ করলে ছাত্র ছাত্রীর ভিড় বাড়বে। ফলে আপনার ইনকাম ও আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে।

৪. রোগ নিরীক্ষণ কেন্দ্র

ব্লাড সুগার, থাইরয়েডের মতো সাধারণ রোগের রক্তপরীক্ষা করতেও গ্রামের মানুষকে সব সময় ই ছুটতে হয় শহরে। অথচ এই রোগীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। আপনি যদি আপনার গ্রামেই একটি রোগ নিরীক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করেন তাহলে গ্রামের মানুষ আপনার কাছেই আসবে।
সাধারণ রোগের জন্য আপনার কেন্দ্রেই রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখুন আর বড় রোগের ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ করে শহরের বড় কোনও কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে পারেন। সেই মতো কোনও বড় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও চুক্তি করে রাখুন।

৫. ওয়াইফাই এর ব্যবসা

আর একটি ব্যবসা খুব চমৎকারভাবে করতে পারেন। সেটি হল ওয়াইফাই এর ব্যবসা। গ্রামে প্রায় সবার হাতে হাতেই ফোন রয়েছে। আর গ্রামে সব থেকে একটি প্রব্লেম হল নেট একদমেই থাকে না। বেশিরভাগ গ্রামে 3G নেট তো দুরের কথা, 2G নেটও পাওয়া যায় না। তাই আপনি ওয়াই ফাই এর ব্যবসা করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক কোম্পানী ও সরকারিভাবে বিটিসিএল এর মাধ্যমে ওয়াই-ফাই এর কমিশন এজেন্ট ও ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে। আপনি যেখানে ভাল সুবিধা পাবেন সেখান থেকে নিয়ে ব্যবসা করবেন। তবে এই ব্যবসা টা একটু ব্যয়বহুল তাই আপনারা বন্ধুরা মিলে শেয়ারে এই ব্যবসা করতে পারেন।

৬. ই-পণ্যের সেবা দিয়ে ব্যবসা করুন

আপনি গ্রামে আরও একটি ব্যবসা করতে পারেন সেটা হল ই-পণ্যোর সেবা। গ্রামের লোকেদের অনেক সময় বাহিরের দেশের পণ্য, যন্ত্র লাগে। যেগুলো alibaba.com ও বিশ্বের অন্য দেশের ই-কমার্স সাইট এ পাওয়া যায়। আপনি সেগুলো গ্রাহকের চাহিদামত অনলাইনে অর্ডার করে এনে তাদের হাতে পৌছে দিয়ে ভাল আয় করতে পারেন। এ ব্যবসাটি গ্রামে একটু কম চলবে। তাই আপনি অন্য ব্যবসার পাশাপাশি এই ই-পণ্যে ব্যবসা করতে পারেন।

এছাড়াও আরো অনেক গ্রাম ব্যবসা আছে যেগুলো করে আপনি গ্রামে সফল ও লাভজনক ব্যবসা করতে পারবেন। এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন যে আপনি কি ব্যবসা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button