মোবাইল আসক্তির থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সকলে অনেক ভালো আছেন। আপনাদের কে আমাদের এই সাইটে আমার পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। আজকের পোস্ট এ আমি আপনাদের সাথে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় সেই বিষয় টি নিয়ে কথা বলবো। তো চলুন দেরি না করে পোস্ট টি শুরু করে দেওয়া যাক।

 

বর্তমানে প্রায় সকলেই মোবাইল ফোনেই বেশি সময় কাটাই। এর জন্য আমরা অনেকেই মোবাইল আসক্তি এর উপর আসক্ত হয়ে পড়ি। আজকে আমি এই বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো। তো চলুন আগে জেনে নেই মোবাইল আসক্তির ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে আমাদের।

 

মোবাইল আসক্তির ফলে কী কী ক্ষতি হয়

মোবাইল আসক্তির ফলে কী কী ক্ষতি হয় আমাদের নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলোঃ-

কাজে মনযোগ নেই

যখন আপনি মোবাইল আসক্তিতে ভুগছেন, তখন অবশই আপনি অন্যান্য কাজ গুলোতে সহজে ফোকাস করতে পারবেন না। যেকোনো সময় আপনার নিজের মোবাইল টি খুচাতে মন করবে যার ফলে পড়াশোনা বা দপ্তরের কাজে মন বসতে প্রচুর সমস্যা হবে৷

 

মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব

অত্যাধিক মোবাইলের ব্যবহারের ফলে সব থেকে অধিক ক্ষতি আপনার মস্তিষ্কে এর ওপরে হয়ে থাকে৷ সারা দিন মোবাইল ব্যবহার করার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক একটুকো বিশ্রাম পায়না এবং মস্তিষ্কের ওপরে প্রচুর চাপ সৃষ্টি হয়।

ফলে,লাইফস্টাইল এর সাথে জড়িত প্রচুর সমস্যা গুলো যেমনঃ একাকিত্ব, ডিপ্রেসন, বোর হওয়া ইত্যাদি হওয়া দেখা যায়৷

আরো পড়ুনঃ   চোখের যে সমস্যা হতে পারে ক্যানসারের লক্ষণ

 

চোখের জন্যেও খারাপ

অবশ্যই, মোবাইলের থেকে চলে আসা আলো আমাদের চোখের জন্যেও খারাপ, তাই যখন আপনি মোবাইল অশক্তিতে ভুগছেন তখন আপনি সারা দিন এবং রাত মোবাইল ব্যবহার করছেন, যার ফলে আপনার চোখে এর ক্ষতিকর প্রভাব অবশই পড়ছে।

 

জীবনে উন্নতি হচ্ছেনা

জীবনে উন্নতি করার জন্য নিজের পড়াশোনা, কাজ কর্ম এবং অন্যান্য জরুরি প্রত্যেক বিষয় গুলোর ওপরে আপনাকে নজর দিতে হবে৷ তাই, মোবাইল আসক্তিতে থাকা ব্যক্তি কেবল মোবাইল নিয়েই সম্পূর্ণ দিন কাটিয়ে দিচ্ছে এবং সময় নষ্ট করছে। এতে, ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অন্ধকার এর দিকে এগিয়ে যায় এবং জীবনে কোনো ভাবেই সফলতা পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনা।

 

মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহারের ফলে মানসিক চাপ (stress) প্রচুর বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দেখা গেছে যে, যে ব্যক্তিরা অত্যাধিক পরিমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং এর আসক্তিতে ভ্রুকছেন তারা অন্যান্য ব্যক্তিদের তুলনায় যেকোনো পরিস্থিতে অধিক নেগেটিভ চিন্তা করেন এবং অস্থির হয়ে পড়েন।

 

একা জীবন কাটানো

দেখা গেছে যে মোবাইল আসক্তির ফলে ব্যক্তি প্রকৃত সমাজ থেকে দূরে চলে যায় এবং ফলে প্রকৃত জীবনে তাদের কোনো বন্ধু-বান্ধব থাকেনা বা হয়ে ওঠেনা বা তারা বন্ধু বানানোর চেষ্টাও করেনা।

এছাড়া, এই ধরণের ব্যক্তিরা সমাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখার ফলে প্রচুর লাজুক হওয়া দেখা যায় এবং একাকীত্ব সাথে জীবন কাটান৷ সোজা ভাবে বললে, এই মোবাইল এর আসক্তির ফলে ব্যক্তি প্রকৃত জীবনে সম্পর্ক বানাতে এবং বজায় রাখতে অসফল হওয়া দেখা যায়৷

 

মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

যদিও বা মোবাইল আমাদের অনেক কাজে লাগে কিন্তু, আস্তে আস্তে সেটা একটা আসক্তি হয়ে যেতে পারে। যদি আপনার নিজেরও মনে হয় যে, আপনি মোবাইলের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাহলে নিচের বলা উপায় গুলো অনুসরণ করে এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ   ওমিক্রন থেকে বাচতে যে বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি

 

নিজেকে সবার মাঝে রাখুন

একা একা থাকা বাদ দিন। সবার সাথে সব সময় থাকার চেষ্টা করুন। সব সময় পরিবারকে সময় দিন। বন্ধুদের সাথে মেলা-মেশা করুন। অবশ্যই ভালোদের সাথে। খারাপদেরকে এড়িয়ে চলুন। যথা সম্ভব মোবাইল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

 

মোবাইলকে দূরে রাখুন

আপনি এখন একটি কাজ করবেন, মনে করুন পড়া-শোনা ই করবেন। কিন্তু মোবাইলের জন্য পড়তে মন চাচ্ছে না। তাহলে আপনি একটি সহজ কাজ করতে পারেন। নিজের ফোন কে এমন যায়গায় রাখবেন যাতে পড়তে একবার বসে গেলে আর উঠে সেখানে মন না যেতে চায়।

বা, মোবাইল ফোন টি কে নিজের ছোট-ভাই বোনের কাছে দিন গেম খেলতে। এর কারণ হলো তারা একবার ফোন হাতে পেলে সহজে আপনাকে আর ফেরত দিবে না। কিংবা তাদেরই বলুন ফোন এমন যায়গায় রাখতে যাতে আপনি খুজে না পান। এতে সহজেই মোবাইল থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

 

নির্দিষ্ট সময় সিলেক্ট করুন ফোন ব্যবহার করার

দেখুন সহজেই কিন্তু একটা আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। কিন্তু আপনি যদি আস্তে আস্তে সেটা থেকে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করেন তো সহজেই সেটা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। এর জন্য আপনি প্রথম দিকে মোবাইল দিনে ব্যবহার করার নির্দিষ্ট সময় সিলেক্ট করুন। মনে করুন আপনি, ১ম দিকে সারাদিন ফোন ব্যবহার করার সময় দিলেন ৫-৪ ঘন্টা।

 

এরপর আস্তে আস্তে সেটা কমান, প্রতি সপ্তাহ পর পর ১৫ থেকে ৩০ মিনি করে কমাতে থাকুন নিজের মোবাইল ব্যবহারের সময়। এরপর একসময় দেখবেন, আপনার নিজেরই আর মোবাইল ব্যবহার করতে মন চাইবে না। তবে হ্যাঁ, এই কাজটি মটেও কিন্তু সহজ না। আপনাকে অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এর জন্য।

 

মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখুন

যখনই আমরা পড়তে যাই বা, মোবাইল থেকে একটু দূরে সরে যায়, তখনই মাঝে মাঝে মোবাইল এ মেসেজ আসে আর মোবাইল এ কি মেসেজ এলো দেখতে গিয়ে আবারো ফোন নিয়ে বসে পরি।

আরো পড়ুনঃ   খুব সহজে কিভাবে ছেলেদের ব্রণ দূর করা যায়।

তো এর জন্যই বললাম ফোন সাইলেন্ট করে রাখুন। এতে কোনো মেসেজ এলেও কোনো সমস্যা হবে না।

 

বই পড়ুন

মোবাইল থেকে দূরে থাকার সব থেকে ভালো উপায় হলো এটি। এমন খুব কম লোকই আছে যারা গল্পের বই বা মজার জোকক্স কিংবা ধাধার বই পছন্দ করেন না। সকলেই প্রায় এগুলোকে পছন্দ করে। তো এর জন্য আপনি মোবাইল রেখে কমপক্ষে সেই বই গুলো পড়ুন। এতে মোবাইল থেকে কমপক্ষে আসক্তি টা দূর হবে।

 

কি-প্যাড ফোন ব্যবহার করুন

যারা স্টুডেন্ট তাদের জন্য ভালো একটা কাজ হলো কি-প্যাড ফোন মানে বাটন ফোন ইউজ করা। স্টুডেন্টদের মেইন কাজ পড়াশোনা করা। তাদের ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। তো এর জন্য আমি সাজেস্ট করবো এন্ড্রয়েড বা স্মার্ট ফোন এর থেকে বাটন ফোন ইউজ করুন। এতে মোবাইল আসক্তি একেবারে কমে যাবে।

 

তো বন্ধুরা আশা করি পোস্ট টি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এরকম পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করতে থাকুন আমাদের এই সাইট টি। আবার দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্ট এ। সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

Please Share This Article

Leave a Comment