Tech News

গুগল ডকস কি? এর ব্যবহারের নিয়ম ও সুবিধা সম্পর্কে জানুন।

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সকলে অনেক ভালো আছেন। আপনাদের কে আমাদের এই সাইটে আমার পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। আজকের পোস্ট এ আমি আপনাদের সাথে এই বিষয় টি নিয়ে কথা বলবো। তো চলুন দেরি না করে পোস্ট টি শুরু করে দেওয়া যাক।

 

গুগল ডকস হলো এমন একটি ফ্রি অনলাইন সার্ভিস যা সম্পর্কে সবার জানা উচিত। একটি ফ্রি ও পাওয়ারফুল সার্ভিস হওয়া স্বত্বেও এটি সম্পর্কে জানেন না অধিকাংশ মানুষ। লেখালেখি থেকে শুরু করে কোনো বিষয় নোট করা পর্যন্ত, প্রায় সকল ধরনের টেক্সট ভিত্তিক কাজে গুগল ডকস (Google Docs) ব্যবহার করা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক গুগল ডকস কি, এর সুবিধা, ও গুগল ডকস ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত।

 

গুগল ডকস কি?

গুগল ডকস হলো গুগল এর একটি ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন সেবা, যাকে মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড এর অনলাইন ভার্সনের সাথে তুলনা করা চলে। গুগল এর এই অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসিং সার্ভিস চালু করা হয় ২০০৬ সালে।

অনলাইন প্রোগ্রাম হওয়ায় ডকস এর ফাইলসমূহ ক্লাউডে জমা হয়ে থাকে। স্টোরেজে কোনো জায়গা দখল না করার পাশাপাশি একাধিক ডিভাইসে একই ফাইল নিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় গুগল ডকস ব্যবহার করে। এছাড়া গুগল ডকস অন্যদের সাথে শেয়ার করা যায়, যার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি একই ডকুমেন্টে কাজ করতে পারে।

গুগল ডকস ব্যবহার করা যাবে docs.google.com লিংকে প্রবেশ করে। এছাড়াও গুগল ড্রাইভ এর হোমপেজ থেকেও গুগল ডকস এর ফাইল তৈরী ও অ্যাকসেস করা যাবে। আবার গুগল ডকস এর অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ ব্যবহার করেও গুগল ডকস ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

 

একাউন্ট খোলার নিয়ম

গুগল ডকস ব্যবহার করতে হলে প্রয়োজন হবে একটি জিমেইল একাউন্ট অর্থাৎ গুগল একাউন্টের। যেকেউ বিনামূল্যে একটি গুগল একাউন্ট খুলে গুগল ডকস এর সুবিধাসমূহ উপভোগ করতে পারবেন। গুগল একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বাংলাটেক এর পোস্ট থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 

গুগল ডক্স এ নতুন ডকুমেন্ট তৈরীর নিয়ম ও এর বিভিন্ন সুবিধা

গুগল ডকস এ নতুন ডকুমেন্ট তৈরি বেশ সহজ। গুগল ডকস এর ওয়েবসাইট, অর্থাৎ docs.google.com এ প্রবেশ করে “Blank” অপশনে ট্যাপ করে নতুন গুগল ডকস ডকুমেন্ট তৈরী করা যাবে। আবার গুগল ডকস মোবাইল অ্যাপ থেকে প্লাস (+) আইকনে ট্যাপ করে “New Document” অপশন সিলেক্ট করে নতুন ডকুমেন্ট তৈরী করা যাবে।

গুগল ডকস ওয়েবসাইটে ব্ল্যাংক ডকুমেন্ট তৈরীর পাশাপাশি অনেক রেডি-মেইড টেমপ্লেট ও পাওয়া যাবে। গুগল ডকস ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে Template Gallery অপশনে ট্যাপ করলে রেজ্যুমে, সিভি, লেটার, বিজনেস নোটস, সেলস রিপোর্ট, ইত্যাদি সম্পর্কিত টেমপ্লেট দেখতে পাবেন।

আপনি যদি গুগল ডকস ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে খুব সহজে এড্রেস বারে docs.new লিখে এন্টার করলে সরাসরি নতুন গুগল ডকস ডকুমেন্ট তৈরী হয়ে যাবে।

আরো পড়ুনঃ সকল সিমের নাম্বার দেখার নিয়ম ২০২২

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ইমপোর্ট

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ধরমের ডকুমেন্ট ফাইল গুগল ডকস এ ইমপোর্ট করা যায়। গুগল ডকস এ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা অন্য যেকোনো সাপোর্টেড ডকুমেন্ট ইমপোর্ট করতেঃ

1. গুগল ড্রাইভে প্রবেশ করুন

2. স্ক্রিনের বামদিকে থাকা “New” বাটনে ক্লিক করুন ও ড্রপ ডাউন মেন্যু থেকে ” File Upload” সিলেক্ট করুন

3. কাঙ্খিত ফাইল আপলোড করুন

4. এরপর আপলোড করা ফাইলে ডাবল ক্লিক করুন
“Open with” অপশনে ক্লিক করে Google Docs সিলেক্ট করলে উক্ত ডকুমেন্ট গুগল ডকস এ ওপেন হবে।

 

স্পেল চেক

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর মত গুগল ডকস অ্যাপেও রয়েছে স্পেল চেকার। কমন টাইপো ও প্রিডিক্টিভ টাইপিং এর মত অটো কারেকশন ফিচার রয়েছে গুগল ডকস এ। গুগল ডকস এ স্পেল চেক করতে টপ মেন্যুতে থাকা “Tools” অপশনে ক্লিক করুন ও ড্রপডাউন মেন্যু থেকে “Spelling and Grammar” সিলেক্ট করুন। এছাড়াও “CTRL + ALT + X” শর্টকাট ব্যবহার করেও স্পেল চেকার ব্যবহার করা যাবে।

 

গুগল ডকস অফলাইন

গুগল ডকস ডকুমেন্ট বিভিন্ন উপায়ে সংরক্ষণের পাশাপাশি অফলাইনেও অ্যাকসেস করার অপশন রয়েছে। প্রতি কম্পিউটারে লগিন থাকা একটি গুগল একাউন্টের ডকস ডকুমেন্ট অফলাইনে অ্যাকসেস করা যাবে।

অফলাইনে গুগল ডকস অ্যাকসেস করতে গুগল ডকস হোমপেজে প্রবেশ করুন। এরপর ডানদিকের টপ কর্নারে থাকা হ্যামবার্গার মেন্যুতে ক্লিক করুন ও এরপর “Settings” অপশনে ক্লিক করুন।

সেটিংসে প্রবেশ করলে বিভিন্ন অপশন দেখতে পাবেন। প্রদর্শিত “Offline” অপশনের পাশে গ্রে সুইচ দেখতে পাবনে, সেটি অন করে দিন। উক্ত ফিচার অন করার পর আপনার ডকস ডকুমেন্টসমূহ অফলাইনে অ্যাকসেস করতে পারবেন।

 

তো বন্ধুরা আশা করি পোস্ট টি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এরকম পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করতে থাকুন আমাদের এই সাইট টি। আবার দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্ট এ। সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

Shihab

নিজে যা জানি তা অন্যকে জানাতে ভালোবাসি আর্টিকেলের মাধ্যমে। বিভিন্ন ওয়েব সাইটে লেখালেখি করি.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button