মোবাইল ফোন আমাদের অজন্তেই যে সব ক্ষতি করে।

হ্যালো বন্ধুরা আশা করি সকলে অনেক ভালো আছেন। আপনাদের কে আমাদের এই সাইটে আমার পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। আজকের পোস্ট এ আমি আপনাদের সাথে এই বিষয় টি নিয়ে কথা বলবো। তো চলুন দেরি না করে পোস্ট টি শুরু করে দেওয়া যাক।

 

আজকে আমরা কথা বলবো মোবাইল ফোন এর ক্ষতিকারক কিছু বিষয় নিয়ে। বর্তমানে মোবাইল ফোন আমাদের নৃত্য দিনের একটি রুটিনে পরিণত হয়েছে। মোবাইল ফোন আমাদের প্রতি দিন এর কাজ এর একটি অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।

আমরা এখন দিন এর প্রায় অধিকাংশ সময় ই মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। তবে বড় রা নিজেদের মতো করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও ছোট রা মোবাইল ব্যবহার করার সময় বড় দের বকা খায় মাঝে মাঝে। কিন্তু এই বকা গুলোই যে আমাদের কত বড় ক্ষতি এর হাত থেকে বাচায় তা বলে বোঝানো সম্ভব না।

কথায় আছে “অভিজ্ঞতা সব থেকে বড় অস্ত্র”, তাই বড়রা কোনো উপদেশ দিলে তা সব সময় ফলো করার চেষ্টা করা উচিত। তো সেটা যাই হোক, আজকে এর টপিক মোবাইল ফোন আমাদের কি কি ক্ষতি করে সেই বিষয় নিয়ে তো চলুন সেগুলো জেনে নিই।

 

মোবাইল ফোন আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

আমাদের অজান্তেই মোবাইল ফোন আমাদের নানা ভাবে ক্ষতি করে থাকে। আজকে এর পোস্ট এ আমরা সেই বিষয়েই জানবো। নিচে আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হই তার মধ্য থেকে কয়েকটি দেওয়া হলোঃ

 

চোখের ক্ষতি করে

মোবাইল ফোন আমাদের সব থেকে বেশি যে ক্ষতি করে সেটা হলো চোখের ক্ষতি। মানতে যদিও কষ্ট হয় তাও এটাই সত্যি যে মোবাইল ফোন আমাদের চোখের অনেক বেশি ক্ষতি করে। আপনারা যারা প্রায়ই মোবাইল ফোন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহার করেন তারা নিশ্চয়ই দেখেছেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ফলে চোখের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ফলে আপনারা এখন দূরের জিনিস গুলো খুব ভালো ভাবে দেখতে পারছেন না।

যদি কারো এরকম হয় তাহলে কেউ এড়িয়ে যাবেন না। দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কে চোখ দেখান এবং চশমা ব্যবহার শুরু করুন। যদি না করেন পরে এর থেকে আরো বেশি সমস্যায় ভুগতে পারেন। আমি নিজেও এই সমস্যা ভুগছি তাই এটা সম্পর্কে একটি উপদেশ দিলাম যাস্ট।

মোবাইল ফো থেকে ব্লু কালার এক ধরনের রশ্নি নির্গত হয়। যা খুব সূক্ষ্ম, তাই খালি চোখে সেগুলো আমরা বুঝতে পারি না আর এই ব্লু রশ্নি টাই আমাদের চোখের ক্ষতি করে। কিন্তু এখন প্রায় সব রকমের ফোনেই “Eye Protection” নামক ফাংশন দেওয়া হচ্ছে। যা ব্যবহার করে মোবাইল এর এই ব্লু কালার রশ্নি টা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যে সব ফোনে এই ফাংশন নেই তারা কিছু এপ ব্যবহার করতে পারেন। এটা ব্যবহার করার ফলে আপনার ফোনের যে ব্লু রশ্নি আছে সে টা হ্রাস পাবে আর চোখ এর সমস্যা টা কিছুটা হলেও কমবে।

আর এই ব্লু রশ্নি টা দেখার জন্য, প্রথমে Eye Protection টা অন করুন। এর পর এটা আবার অফ করুন তাহলে এটা ঠিক কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারবেন।

 

একাকিত্ব বাড়িয়ে দেয়

আমাদের একাকি সময় মোবাইল ফোন আমাদের সময় কাটাতে অনেক সাহায্য করে। কিন্তু এটাও ঠিক যে এই একা থাকা টাও আমাদের মোবাইল ফোন টি ই করে। আমরা মোবাইল ফোনের জন্য বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যাই। আর এর জন্য আমাদের একাকিত্ব বাড়ে।

 

বাস্তব জীবন থেকে দূরে রাখে

মোবাইল এর প্রতি আসক্ত বাড়ার কারণে এখন অনেকে বাস্তব জীবন এর কাজ, যেমনঃ খেলা – ধুলা ইত্যাদি অন্যান্য কাজ থেকে দূরে থাকে আর মোবাইলের গেমস এর প্রতি বেশি আকর্ষিত হচ্ছে।

 

মানুষ কে চিনতে ভূল করা

বর্তমানে অনলাইনে এখন অনেক খারাপ কাজ ও হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইনে নানা রকমের ঠকানো ব্যবসা শুরু হয়েছে। ফলে দেখবেন অনেক সময় অনেকে বলে এই ব্যক্তি আমাকে ঠকিয়েছে। এটা মনে করে বাস্তব জীবনেও কোন মানুষ কেমন তা অনেকে চিনতে ভূল করে।

আবার অনলাইনে অনেক বন্ধু বান্ধব বানানো যায়। যাকে বলে ভার্চুয়াল ফ্রেন্ডস। তারা কেমন তা আমরা না জেনেই যার তার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করি। তারা কেমন সেটা না জেনেই। এভাবে বাস্তব জীবনেও এর অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে আমাদের উপর।

 

আসক্তি বাড়িয়ে দেয়

এখন মোবাইল ফোনের অনলাইনে এমন ও অনেক জিনিস রয়েছে যে গুলো আমাদের অনেক আসক্ত করে ফেলে। যার মধ্য অন্যতম হলো মোবাইল গেমস। এখন মোবাইল গেমস আমাদের এত আসক্ত করে ফেলেছে যে এটা ছাড়া আমরা এক দিন ও থাকতে পারি না।

আবার এখন অনলাইনে এমন কয়েকটি ওয়েব সাইট তৈরি হয়েছে যেগুলো পর্ণগ্রাফি এর সাইট। সেই পর্ণগ্রাফি ওয়েব সাইটের পর্ণ ভিডিও গুলো এর প্রতিও অনেকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এগুলো থেকে নিজে ও পরিবারের বাকি সবাইকে দূরে রাখতে হবে।

 

 

এখন কথা হলো এগুলো যখন আছে তখন এগুলো ব্যবহার কেন করবো না। আপনি ব্যবহার কেন করবেন না করুন। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না। প্রতিদিন এর টাইম টেবিল এ আপনি চাইলে ধরা – বাধা কিছু সময় মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন।

আপনারা জেনে অবাক হবেন যে ইউটিউব, গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট, আমাজন ইত্যাদি এর মতো বড় বড় প্লেস গুলো এর মালিক রা নিজেদের সন্তান কে নিজেদের তৈরি করা এই জিনিস গুলো থেকে দূরে রাখে। যাতে তারা আসক্ত না হয়।

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজের ছোট্ট সন্তান কে ফেসবুক ব্যবহার না শিখিয়ে তাকে কিডস বই পড়তে উৎসাহিত করেন। অথচ তিনিই কিন্তু ছোট বাচ্চাদের মেসেঞ্জার ব্যবহার করার জন্য বানিয়েছেন মেসেঞ্জার কিডস।

এসব তাদের আয় করার একটি উৎস। তারা জানেন এগুলো ব্যবহারে কী কী ক্ষতি হতে পারে। তাই নিজেদের সন্তান কে এগুলো থেকে দূরে রখেন। আমাদের ও উচিত এগুলো থেকে দূরে থাকা। আর ব্যবহার করলেও তা স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা।

 

তো বন্ধুরা আশা করি পোস্ট টি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। ভালো লেগে থাকলে কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এরকম পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করতে থাকুন আমাদের এই সাইট টি। আবার দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্ট এ। সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top