অসাধারণ একটি বন্ধুদের গল্প–সেরা বন্ধুত্বের গল্প

Share the article..

অসাধারণ একটি বন্ধুদের গল্প–সেরা বন্ধুত্বের গল্পঃ আনুশা তার প্রিয় বান্ধুবি তানজিলাকে লিখা একটি অসাধারণ চিঠি।একজন ভালো বন্ধুর গল্প,বন্ধুত্বের কষ্টের গল্প,বন্ধুত্বের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? বন্ধুত্বের বন্ধন সব কিছু নিয়ে দারুণ একটা গল্প। আসুন দেখে নেই চিঠিটি। অনেক কিছু শিক্ষার আছে এই চিঠি থেকে। এই পোস্টটি নেওয়া হয়েছে Nill Noyona Tanju ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। তো বেশি দেরি না করে দেখে নেই।

Anusha প্রিয় লেখাগুলো রেখে দিলাম
স্মৃতির পাতায়🥰😍

তানজু,

অনেক কথা বলার ছিল। আমি বলি না বলতে গিয়ে থেমে যাই। তারপর আবার না বলার সেই অস্থিরতা আমার মধ্যেই বাড়তে থাকে। একটু সময় হবে শোনার? হয়তো হবে, হয়তো বা না!!

থমথমে প্রকৃতির ন্যায় কাটছে দিন। কিছুটা ভালো কিছুটা খারাপ নিয়েই ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে সময়। আমরা চাইলেও সময়কে আটকাতে পারছি না। তাই ” আশা করি ভালো আছো’র ” মতো নিরর্থক বাক্য এখানে শোভনীয় নয়। গোধূলি রাঙা সন্ধ্যের ন্যায় অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও আলোর ঝলকানিতে উৎসবমুখর হোক তোমার প্রতিটা মূহুর্ত কিংবা অনাগত জীবন।

তানজু, জীবনের কোনো এক লগ্নে কিছু পুন্য করলে বোধহয় এমন কিছু মানুষের সাথে পরিচয় মিলে যে বা যারা নিজের অজান্তেই হয়ে যায় হৃদয়ের কাছে আপন। পরিচয়টা কত দিনের কিংবা মাসের তার হিসেব তখন মিলাতে হয় না আর।

হ্যাঁ, তানজু যেই বয়সে আমি ভেবেছি আমার কোনো বন্ধু হবে না ঠিক সেই মুহুর্তে এসে তোমার, ফারহার সাথে পরিচয় আমার। গৃহস্থের বাড়ির উঠোন জুড়ে চড়ুই পাখির ন্যায় হুট করেই যোগ হলে বন্ধু তালিকায়!! আমার ভিক্টোরিয়া ভালো লাগে নি, এখনো লাগে না কিন্তু যত দিন গিয়েছে /যাচ্ছে ততই আমি তোমাদের মায়ায় আটকে গিয়েছি। মাঝে মাঝে তো মনে হয় তোমাদের দিকে তাকিয়েই ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও অনায়াসে ৪ টা বছর আমি পার করে দিতে পারবো।

তানজু,

বন্ধুভাগ্য আমার সবসময় ই ভালো। তুমি আর ফারহা আমার কাছে যে কতটা তা আমি তোমাদের কে হয়তো গুটিকয়েক শব্দ কিংবা বাক্য কুড়িয়ে এনে দু – কলম লিখে প্রকাশ করতে পারবো না। কিন্তু তোমরা আমার কাছে স্বস্তি – শান্তি, রোদ – বৃষ্টি!! তোমাদের কে না পেলে হয়তো আমার ক্যাম্পাস লাইফ বিষাদময় হতো!

যেদিন তুমি বলেছো হুট করেই তোমার বিয়ে ব্যাপার টা আমি সিরিয়াস ভাবে নেই নি, নিতে পারিনি। কিন্তু যত সময় এগোচ্ছে ব্যাপার টা আমাকে ভাবাচ্ছে। তোমার মন খারাপ আমাকে বিষন্ন করে তুলছে। গতকাল বিকেল হতে না হতেই ক্রমশ অস্থিরতা গ্রাস করছে আমায়। কি যেন নাই, কি যেন হারিয়ে ফেললাম। রাত যত বাড়ছে প্রগাঢ় শুন্যতা পেয়ে বসেছে আমায়, কিন্তু বুঝে উঠতেই পারছি না হলো টা কি। রাতের বেলায় তোমার সাথে কথা বলার সময় টের পেলাম আমার চোখ গড়িয়ে জল আসছে, আমার বুক ভারি হয়ে আসছে, গলা অবধি উঠে এসেছে নিরব চাপা কান্না। তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে শোনার পর থেকেই মনে হচ্ছে – ” ” হারিয়ে ফেললাম না তো মেয়ে টা কে। ” আমি কিছু ভাবতে পারছি না, শুধুই মনে পড়ছে চোখের সামনে ভাসছে আমাদের একসাথে কাটানো কয়েকটা মুহুর্তের কথা। ইশ! যদি আরেকবার সেই সুযোগ টা পেতাম!

তানজু,

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ বুঝতে পারে ” ভালোবাসি” কথাটা বলে ফেলা সহজ নয়! মায়ার অনুভূতিটা আত্মিক অনুভূতি তা শুধু আপনজনের জন্য ই হয় না। একসাথে কিছুটা পথচলা বন্ধুটার জন্যও প্রচন্ড মায়া লাগতে পারে, চোখ ভিজে উঠতে পারে, বার বার ডেকে বলতে ইচ্ছে করে- এই শোন না, তোকে আমি বড্ড বেশি ভালোবাসি, আমার চোখের সামনে দেখতে চাই!

তুমি জানো না, তোমার হঠাৎ নিরব হয়ে যাওয়া আমাকে কতটা পুড়াচ্ছে। নতুন জীবনে পা দিবে কিছু টা পরিবর্তন আসবে স্বাভাবিক কিন্তু তোমার এই পরিবর্তন কেন জানি আমার কাছে বিষাদময় স্মৃতি হয়ে উঠেছে। খুব কাছের মানুষ হলেই তাদের জন্য আমাদের চোখের জল বেরিয়ে আসে। এই চোখের জল ই জানিয়ে দেয় কতটা টান সৃষ্টি হয়েছে। দিনশেষে তোমার ব্যস্ততা বাড়বে, হয়তো শহর বদলাবে, নিজের জায়গা পরিবর্তন করবে কিন্তু মায়া লাগবে জানি। আর হয়তো সেই জায়গা থেকেই আমাদের অস্থিরতা, তানজু!

কালকে রাতে যখন তোমার সাথে কথা হচ্ছিল আমি না চাইতেও তোমার মন খারাপ আমাকে এতোটা স্পর্শ করেছে আমার ফোনের স্ক্রিন ভিজতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের যে দিন গেছে সে দিন কি একেবারেই গেছে, তানজু??

কতকিছু লিখতে চাচ্ছি অথচ দম বন্ধ হয়ে কান্না আসতেছে, হাত কাঁপছে, কাঁপছে একমুঠো আকারের হৃৎপিন্ড, ফোনের স্ক্রিন ভিজে যাচ্ছে।
গুছিয়ে গল্প লিখা যায় কিন্তু অনুভূতি………!!

জীবনে সবকিছু ইচ্ছানুযায়ী হয় না। জীবন মানেই যেভাবে আছি আর যা আছে তা নিয়েই ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া। বর্তমান কে কেন্দ্র করে হতাশ হওয়া চলবে না, একদম ই না। সকল ঝড়ঝাপটা কে জয় করার মতো সাহসী হও সেই প্রার্থনাই আমার স্রষ্টার নিকট। খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার দরকার নেই, কিছুটা হলেও আগের মতো থেকো প্লিইইইইইইইজ। তোমার ঐ বন্ধুত্বের হাত টা সক্রিয় রেখে, আপন মানুষদের নিয়ে ভালো থেকো, বন্ধু!!

” অনুষা”

© Nill Noyona Tanju


Share the article..

Leave a Comment