Wednesday, November 30, 2022

শেয়ার্ড হোস্টিং কি, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার

আসসালামু আলাইকুম আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বলবো শেয়ার্ড হোস্টিং কি, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার সম্পর্কে।

আপনারা যদি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে চান তাহলে অবশ্যই আজকেরে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ বিস্তারিত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক শেয়ারর্ড হোস্টিং কিঃ

শেয়ারর্ড হোস্টিং কি?

শেয়ারড হোস্টিং মানে মূলত এক পিসিতে একটা হার্ডডিক্স থাকবে  এবং সেই হার্ডডিক্স এর সব স্পেস শেয়ার করা হবে অনেক হোস্টিং ইউজারদের মধ্যে।

ধরুন আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে এবং আপনার ওয়েবসাইটটি চালাতে ২ জিবি হোস্টিং স্পেস লাগবে।আর আপনাকে এই ক্ষেত্রে একটি কোম্পানির কাছ থেকে এক বছর মেয়াদে ২ জিবি হোস্টিং স্পেস কিনলেন,তারপরে ওই হোস্টিং স্পেস এর মধ্যে আপনার ফাইল এর সব ধরনের ডাটা এবং ইনফো রাখতে পারবেন।

আপনি যে কোম্পানির কাছ থেকে হোস্টিং স্পেস কিনছিলেন মূলত সেই কোম্পানি তার পিসির একটা হার্ডডিস্ক থেকে আপনাকে ২gb ভাড়া দিচ্ছে আর বাকি যে স্পেস গুলি থাকবে সেগুলো আপনার মতো আরো অনেকের কাছে প্যাকেজ আকারে তারা বিক্রি করবে।আর এটাই হল মূলত শেয়ার্ড হোস্টিং।

শেয়ার্ড হোস্টিং এর কিছু সুবিধা

আপনি এই ধরনের হোস্টিং স্পেস খুব কম খরচে নিতে পারবেন এবং খুব সহজে চালাতে পারবেন যদি একবার দেখিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া শেয়ার্ড হোস্টিং এর আরো অসংখ্য সুবিধা রয়েছে যার জন্য আমাদের দেশের অধিকাংশ ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীরা শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।যেমনঃ

  • ১.আনলিমিটেড সাবডোমেইন ক্রিয়েট করতে পারবেন
  • ২.আনলিমিটেড ই-মেইল ব্যবহার করতে পারবেন
  • ৩.আনলিমিটেড ডাটাবেজ সুবিধা
  • ৪.৯৯.৯% আপটাইম
  • ৫.ফ্রি cPanel
  • ৬.ফ্রি ডোমেইন কন্ট্রোলার
  • ৭.ফ্রি লাইফ টাইম এসএমএল

শেয়ার্ড হোস্টিং এর অসুবিধা

প্রতিটি জিনিসের যেমন সুবিধা অসুবিধা রয়েছে তেমনি শেয়ার্ড হোস্টিং এর কিছু অসুবিধা রয়েছে। ডিসের শেয়ার্ড হোস্টিং এর কিছু অসুবিধা সমূহ উল্লেখ করা হলোঃ

১.শেয়ার্ড হোস্টিং এর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অনেক কম থাকে কেননা এই ক্ষেত্রে একই হার্ডডিক্স এর ভিতরে অসংখ্য ইউজারের ডেটা সংগ্রহিত থাকে.

২.শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করলে অনেক সময় যদি লোড বেশি পড়ে তাহলে সাইট ডাউন হয়ে যায়।

৩.ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটে তুলনায় শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহারকারীর ওয়েবসাইটারদের লোডিং স্পীড অনেক কম থাকে।

ভিপিএস হোস্টিং কী?

ভিপিএস হোস্টিং মূলত যখন একটা কম্পিউটার কে বিশেষ কোন সফটওয়্যার বা অন্যকিছু দিয়ে ভাগ করে অনেকগুলো সার্ভার তৈরি করা হয়ে থাকে তখন এক একটা ভাগকে VPS বলে।

ভিপিএস হোস্টিং হচ্ছে মূলত শেয়ার্ড হোস্টিং এর থেকে আলাদা কেননা এখানে হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে আলাদা আলাদা র‍্যাম, হার্ডডিক্স এবং সিপিইউ দিয়ে থাকে।

এককথায় আপনার পার্সোনাল কম্পিউটারের মতো।তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারছেন যে তারা এই ক্ষেত্রে আপনার জন্য একটি আলাদা কম্পিউটারের মতো ব্যবস্থা করে রাখছে।

আপনি ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহার করার মাধ্যমে সাইটকে নিরাপদে রাখতে পারবেন এবং আপনার সাইটের স্পিডও অনেক ভালো থাকবে।

আরো পড়ুনঃ বাংলা ওয়েব সাইট থেকে আয় করার সেরা কয়েকটি উপায়

ভিপিএস হোস্টিং এর কিছু সুবিধা

ভিপিএস হোস্টিং আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহার আরো অনেক উন্নত করে তোলে। ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহার রয়েছে নানা ধরনের সুবিধা। নিচে রইল ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহারের কিছু সুবিধাঃ

১.ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহারকারী ওয়েবসাইট মালিকদের ওয়েবসাইটের স্পিড নিয়ে কোন চিন্তা থাকে না কেননা শেয়ার্ড হোস্টিং এর চেয়ে ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটের স্পিড অনেক বেশি থাকে।

২.শেয়ার্ড হোস্টিং এর মতো এক জায়গায় না হয়ে আলাদা Ram, Hard Disk, CPU হয়ে থাকে।তাই এক্ষেত্রে নিরাপত্তাটা একটু বেশি পাওয়া যায়।

৩.ভিপিএস হোস্টিং নিরাপত্তা আপনারা অনেক বেশি পাবেন কেননা এখানে একটা হার্ডডিক্স এর মধ্যে শুধুমাত্র আপনার সাইট থাকবে।

৪.ভিপিএস হোস্টিং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত গতির উচ্চ পারফরম্যান্সের হার্ডওয়ার্ক সমূহ ওয়েবসাইটের গতিকে ত্বরান্বিত করে।

ভিপিএস হোস্টিং এর কিছু অসুবিধা

ভিপিএস হোস্টিং এর রয়েছে যেমন অসাধারণ কিছু সুবিধা তেমনি এর কিছু অসুবিধা রয়েছে। ভিপিএস হোস্টিং এর কিছু অসুবিধা সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

১.ভিপিএস হোস্টিং এর দাম শেয়ার্ড হোস্টিং এর থেকে অনেক বেশী হয়ে থাকে যার ফলে অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে যায় ব্যবহার করা।

২.ভিপিএস হোস্টিং মূলত ডেডিকেটেড সার্ভার এর মত একটা কম্পিউটারের পুরাটাই একটা সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না।

ডেডিকেটেড সার্ভার কি?

ডেডিকেটেড সার্ভার হচ্ছে নিজেই একটি কম্পিউটার সিস্টেম।আপনার যদি এই সার্ভারটি থেকে থাকে তাহলে আপনি এটি আপনার মত করে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি চাইলে এক্ষেত্রে নিজের বাসার কম্পিউটারের মতোই এটিকে ইনস্টল করতে বন্ধ করতে বা রিস্টার্ট করতে পারবেন।

ডেডিকেটেড সার্ভার কি কারণে প্রয়োজন

যদি আপনার অনেক বেশি ভিজিটর থেকে থাকে তাহলে এমন কিছু সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে যা শেয়ার হোস্টিংয়ে অনুমোদন নেই। আপনার ওয়েবসাইটটি যদি অনেক বেশি নিরাপত্তা দরকার হয়ে থাকে তাহলে আপনি ডেডিকেটেড সার্ভার এর ব্যাবস্থা করতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য।

ডেডিকেটেড সার্ভার এর সুবিধা

ডেডিকেটেড সার্ভার এর অসংখ্য সুবিধা রয়েছে তাই আমি নিজে এর সুবিধা গুলো উল্লেখ করলাম। যেমনঃ

১.ডেডিকেটেড সার্ভার যেহেতু আপনার নিজের হবে তাই আপনি এটি নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারবেন।

২.আপনি চাইলে এটি যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারবেন আবার রিস্টার্টও করতে পারবেন।

৩.আপনি চাইলে সার্ভারের বায়োসের ঢুকতে পারবেন এবং কোন পোর্ট যদি বন্ধ করতে চান সেটাও আপনি করতে পারবেন.

৪.ডেডিকেটেড পরিচালনা করতে একটু কঠিন হতে পারে সেই ক্ষেত্রে আপনারা ম্যানেজড সার্ভিস নিতে পারেন.

৫.আপনার ওয়েবসাইটে যদি অসংখ্য ভিজিটর থেকে থাকে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ডেডিকেটেড সার্ভার হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ।আপনি চাইলে তখন ডেডিকেটেড হোস্টিং নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।

ডেডিকেটেড সার্ভার সম্পর্কে কিছু কথা

ডেডিকেটেড ওয়েবহোস্টিং এখন প্রায় ছোটখাট সবধরনের ব্যবসায়ী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ডেডিকেটেড ওয়েব হোস্টিং আপনাকে অনেক বেশী নিরাপত্তা এবং ফ্লেক্সিবিলিটি দিয়ে থাকে।

এখানে মূলত ১০০ জন শেয়ার্ড হোস্টিং ইউজার এবং ২০ জন ভিপিএস হোস্টিং ইউজারের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আপনি একটা ভালো ডেডিকেটেড সার্ভার হোস্টিং এর মাধ্যমে লক্ষ্য লক্ষ্য ভিজিটরকে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করার

ডেডিকেটেড হোস্টিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি এখানে সবকিছু নিজের কন্ট্রোলে রাখতে পারবেন যার ফলে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়বেন না।

তাই আপনার প্রথম পর্যায়ের যদি বাজেট কম থাকে তাহলে সেয়ারেট হোস্টিং তারপরে ভিপিএস হোস্টিং  এবং তার পরে যখন আপনার ওয়েবসাইটে অসংখ্য ভিজিটর আসবে তখন আপনি ডেডিকেটেড হোস্টিং নিয়ে নিতে পারেন।

আপনি এতে করে আপনার ওয়েবসাইটকে নিরাপদে রাখতে পারবেন এবং ভিজিটরদের কেউ আপনি উন্নত ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুবিধা দিতে পারবেন। তাই আপনি প্রথম পর্যায়ে শেয়ার্ড হোস্টিং নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন কিন্তু ভিজিটর বাড়ার সাথে সাথে অবশ্যই আপনাকে ডেডিকেটেড হোস্টিং নিতে হবে তাহলে আপনার ওয়েবসাইট নিরাপদে রাখতে পারবেন।

 আমাদের শেষ কথা

আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি যারা সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়েছেন তারা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে শেয়ার্ড হোস্টিং,ভিপিএস হোস্টিং এবং ডেডিকেটেড সার্ভার কি সেই সম্পর্কে।

আপনি যদি একজন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য এই তিনটি হোস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি এখান থেকে আপনার সুবিধামতো যেকোনো হোস্টিং নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনাদের যদি এই বিষয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আর আমাদের পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

Shakil Ahamed
Shakil Ahamedhttps://shoptips24.com
চেষ্টা করলে সফল অবশ্যই হওয়া যায়। চেষ্টা নতুন কিছু করার।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here