রাতে কি ঘুম আসে না? ঘুমের ওষুধ সম্পর্কে জানুন

আমরা দিনে তো ঘুমাই না। কিন্তু সারাদিন পরিশ্রম করে ক্লান্ত দুর করার জন্য রাতে ঘুমানোর পয়োজন পরে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ আছেন যাদের রাতে ঘুম আসে না।রাতে কি ঘুম আসে না? ঘুমের ওষুধ সম্পর্কে জানুন।

আমরা এই আরটিকেল থেকে যা যা জানবো

ঘুমের ওষুধ এর ব্যবহার:

ঘুম কম হলে বা ঘুম কম আসলে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তো চলুন দেখে নেই ঘুমের ওষুধ কেনো খাওয়া হয় অথবা ঘুমের ওষুধ এর ব্যবহার।

  • অনিদ্রা: আপনার যদি ঘুম কম আসে বা অনিদ্রা হয় তাহলে আপনি ঘুমের ওষুধ ট্যাবলেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে তারপর ঘুমের ওষুধ খাবেন অথবা ঘুমের ওষুধ এর ব্যবহার করবেন।
  • উদ্বেগ : উদ্বেগ হলো অতিরিক্ত চিন্তা করা বা কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভাবা। আপনি যদি অতিরিক্ত চিন্তা করেন অথবা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে মাথা ব্যথা করে এবং সেই সাথে চিন্তার কারনে ঘুম কম হয় তাহলে ঘুমের ওষুধ এর ব্যবহার করা যায় কিন্তু অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই ব্যবহার করবেন ।

ঘুমের ট্যাবলেট খেলে কি হয়?

ঘুমের ট্যাবলেট খেলে ঘুমের ওষুধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে। এর ফলে হ্যালুশিনেশন এবং বিভ্রান্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া ঘুমের ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়লে তা পানি পিপাসা কমিয়ে দেয়, এতে করে শরীরে পানি শূণ্যতা দেখা দিতে পারে ফলে তা কিডনিতে প্রভাব ফেলে। এ কারণে অনেক সময় হেপাটাইটিস ধরনের রোগও হতে পারে।

ঘুমের ঔষধ-এর নাম কী?

main qimg af1438a3652b

এখানে কিছু ঘুমের (antidepressant) ওষুধের গ্রুপ নাম লিখতেছি। আপনি চাইলে কিন্তু ঘুমের ওষুধ ক্রয় করতে পারবেন না। কারণ, এগুলো প্রেসক্রিপশন ঔষধ। রেজিস্ট্রার ডাক্তারের লিখিত অনুমতি ছাড়া আপনি ঘুমের ওষুধ ক্রয় করতে পারবেন না। তারপরও অনেকে ঘুমের ওষুধের নাম জানতে চাই। তাই কিছু ঘুমের ঔষধ-এর নাম নিচে দেওয়া হলোঃ

  • বারবিচুরেট
  • ক্লোনাজেপাম
  • ডায়াজেপাম
  • ক্লোনিডাইন হাইড্রক্লোরাইড
  • এলপ্রাজোলাম
  • এমিট্রিপটাইলিন
  • ব্রোমাজেপাম
  • বুসপিরন
  • ক্লোরডায়াজেপক্সাইড
  • ক্লোরপোমাজিন হাইড্রক্লোরাইড
  • ক্লোবাজাম

এই সকল গ্রুপের ঘুমের ঔষধ গুগলো মানুষের মস্তিষ্ক শান্ত (চিন্তা মুক্ত) করে যারধরুন ঘুম আসে।

ঘুমের ওষুধ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ

ঘুমের ওষুধ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক আছে। তারমধ্য হতে কিছু তুলে ধরা হলো নিছে। ঘুমের ওষধ ব্যবহারের ফলে নরমাল যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তার একটি তালিকা দেয়া হলো । মনে রাখবেন এখানে সম্পূর্ণ তালিকা দেয়া হয় নাই। এর বাহিরেও আপনার অনেক পার্শপ্রতিক্রিয়া হতে পারে । এমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারেন যা আপনার জীবনের জন্য খুবই ক্ষতিকর সুতরাং আপনি অবশ্যই ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন ।ঘুমের ওষধ ব্যবহারের ফলে নরমাল যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তার একটি ছোট তালিকা দেয়া হলোঃ

  • খিটখিটে মেজাজ।
  • অর্ধচেতন ।
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া।
  • কাজ করার শক্তি কমে যাওয়া ।
  • প্রতিবন্ধী মানসিক কর্মক্ষমতা।
  • তন্দ্রাচ্ছন্নতা।
  • জাগরস্বপ্ন।
  • নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয় এবং এটি কারো কারো নেশাতেও পরিণত হতে পারে।

ঘুমের ওষুধ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ ঘুমের ওষুধ কি অনিদ্রা বা ঘুম কম হওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ?

উত্তর: অনিদ্রা বা ঘুম কম হওয়ার জন্য ঘুমের ওষধ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ।

প্রশ্নঃ ঘুমের ওষুধ কর্মক্ষমতার প্রভাব কখন থেকে শুরু করে ?

উত্তর: ঘুমের ওষুধ কাজ করা শুরু করে চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী ঘুমের ওষধ সেবন করার দুই ঘণ্টা পর থেকে কাজ শুরু করে । তবে অনেক ওষুধ আছে যেগুলো ১০ থেকে ২০ মিনিট এর মধ্যে কাজ শুরু করে দেয়।

প্রশ্নঃ ঘুমের ওষুধ দিনে কতবার ব্যবহার করা যাবে ?

উত্তর: ঘুমের ওষুধ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ দিনে একবার ব্যবহার করা উত্তম । ঘুমের ওষুধ শুধুমাত্র ঘুমানোর আগে ব্যবহার করতে বা করা যাবে ।ঘুমের ওষুধ দিনে কতবার ব্যবহার করা যাবে ?ঘুমের ওষধ অতিরিক্ত ব্যবহার করলে এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে । উপরে ঘুমের ওষুধ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ছোট একটি আইডিয়া দেওয়া আছে অবশ্যই দেখে নিবেন।ঘুমের ওষুধ দিনে কতবার ব্যবহার করা যাবে ? অতিরিক্ত ঘুমের ওষধ ব্যবহার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে ।

প্রশ্নঃ ঘুমের ওষুধ কখন ব্যবহার করতে হবে ?

উত্তর: রাতে খাবারের পর ঘুমানোর আগে ঘুমের ওষধ ব্যবহার করতে হবে । অবশ্যই কিছু খাওয়ার পর ঘুমের ওষুধ খেতে হবে। খালি পেটে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

প্রশ্নঃ কয়টা ঘুমের ঔষধ খেলে মানুষ মারা যায়?

mault 1

উত্তর: আনুমানিক ১০ থেকে ৬০+ ঘুমের ট্যাবলেট খেলে কেউ মারা যেতে পারে। ঘুমের ঔষধ এর কাজ হচ্ছে সাধারণত আমাদের শ্বাসতন্ত্রের সাথে মস্তিষ্কের সংযোগ নষ্ট করা।কয়টা ঘুমের ঔষধ খেলে মানুষ মারা যায়. অর্থাৎ অধিক ঘুমের ঔষধ সেবন করলে মস্তিষ্ক শ্বাস নেয়ার সংকেত পাঠাতে পারেনা, ফলে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটে। আপনার নার্ভাস সিস্টেম যত বেশি সক্রিয় মৃত্যু হতে তত বেশি ওভারডোজের প্রয়োজন হবে।কয়টা ঘুমের ঔষধ খেলে মানুষ মারা যায়। তবুও সর্বোপরি মৃত্যু আল্লাহ্‌র হাতে, কেউ হয়তো ১০০ টা খেলেও দিব্যি বেচে থাকতে পারবে।

প্রশ্নঃ ঘুমের ওষুধ আসক্তি বা অভ্যাস হওয়ার মত?

উত্তর: হ্যা, ঘুমের ওষুধ অতিরিক্ত ব্যবহার করলে নেশায় পরিণত হবে । তবে কোন ওষুধে অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ আছে কী?

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ নেই।পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ নয় কোনো ওষুধই নেই। তবে গবেষকরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ঘুমের ওষুধ আবিষ্কার করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন৷ একটি দুঃখজনক ঘঠনা কয়েক দশক আগে বারবিচুরেট ঘুমের ওষুধ হিসাবে বেশ নাম করেছিল৷ কিন্তু এর উপাদান মানুষকে নির্ভরশীল করে৷ কিন্তু একটি দুঃখজনক ঘটনা থেকে ওষুধটির নাম ছড়িয়ে যায় বিশ্বব্যাপী৷ হলিউডের চিত্রতারকা মেরিলিন মনরো বেশি ডোজে এই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন৷

ঘুমের ওষুধ নিয়ে সতর্কতা :

আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবন বা ব্যবহার করবেন না।ঘুমের ওষুধ একটি সাধারণ ঘুমের ঔষধ । অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে । অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেবিন করিলে প্যারালাইসড হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনি অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খেলে কোমায়ও চলে যেতে পারেন , স্মৃতিশক্তি হারাতে পারেন । তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবন বা ব্যবহার করবেন না।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment